সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনা এবং নারীর ক্ষমতায়ন

এডভোকেট আব্দুল হান্নান রঞ্জন
  • আপডেট : শনিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ২৬০ পঠিত

১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা-বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭২ সনের ১০ই ফেব্রয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে স্বাধীন দেশে স্ব-গৌরবে ফিরে আসেন এবং ক্ষমতা গ্রহন করেই যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশকে পূণঃর্গঠনের কাজ শুরু করেন।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন যে সংবিধানে রাষ্ট্র এবং জনজীবনের সব ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারী উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহনের করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পূনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সনে বঙ্গবন্ধু নারী পূনর্বাসন বোর্ড গঠন করেন। এ বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক অভিযাত্রা শুরু হলেও ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ট এর কালরাত্রিতে কতিপয় উচ্চবিলাসী উশৃংখল সেনাবাহিনীর হাতে সপরিবারে নিহত হন।,

থেমে যায় নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রা। দীর্ঘ ২১ বছর অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পথ পরিক্রমায় ১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয় এবং প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন।বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহনের পর পরই নারী ও শিশু অধিকার এবং উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে যুগোপযোগী বিবিধ কার্যক্রমসহ ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র ডাইনামিক নেতৃত্বে সরকার জেন্ডার সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ নারীর প্রতি সবধরনের বৈষম্য দূরীকরণ সনদ, বেইজিং প্ল্যাটফরম ফর এ্যাকশনসহ আন্তর্জাতিক সনদ অনুসরণে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। শেখ হাসিনা’র দূরদর্শী নেতৃত্বে এই গনতান্ত্রিক সরকার জাতিসংঘ কতৃক ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ঘোষনা করেন যাতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর সম্পৃক্ততার কথা স্পষ্টত উল্লেখপূর্বক ইহাকে বহুমাত্রিক বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।,

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর দর্শন অনুসারে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নূতন ধারা সুচিত করেন এবং ২০১১ সালে তাঁর নেতৃত্বে এই গণতান্ত্রিক সরকার নারীসমাজের উন্নয়ন কল্পে এক নীতিমালা প্রণয়ন করেন যাহা “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১” নামে অভিহিত। বর্তমানে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দূর্বার গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। দেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় উন্নয়নে প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহন নিশ্চিতে সরকার কতৃক গৃহীত নানামূখী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। আসলে, নারীরা আজ তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা মেধা আর শ্রম দিয়ে যুগে যুগে বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতি আর উন্নয়নের সমান অংশীদার। বদলে গেছে নারীর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি — এখন নারীদের কাজের মূল্যায়ন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাদের কাজের স্বীকৃতি মিলছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার নারীর ক্ষমতায়নে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার পদে একজন নারীকে নির্বাচিত করেন। তৃণমূলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমুহে জনপ্রতিনিধিসহ প্রসাশন, বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, চিকিৎসা ও শিক্ষা বিভাগ, সামরিক ও বে-সামরিক প্রসাশনের সর্বস্থরেই এখন নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইতিমধ্যেই নারীর ক্ষমতায়ন বেশ কিছু আইননীতি ও বিধিমালা প্রনয়ণ করেছেন। বর্তমানে বিচারপতি, সচিব, ডেপুটি গভর্নর, রাষ্ট্রদূত, থেকে শুরু করে মানবাধিকার কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন নারী কর্মকর্তাগন।,

অঞ্জনা খান মজলিস, আমাদের নেত্রকোণা জেলার প্রথম জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও সূযোগ্য জেলা প্রশাসক — যাহা বর্তমান সরকারের নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই রকম বাংলাদেশের অনেক জেলায় নারী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার-এর মতো দেশের অধিকাংশ উপজেলাই বর্তমানে নারী কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। বিচার বিভাগেও দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ, যুগ্ম জেলা জজ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটসহ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের পদ অলংকৃত করছেন নারী কর্মকর্তাগন এবং সফল ভাবে দক্ষতার সাথে বিচার কার্য্য পরিচালনা করছেন। সাংবাদিকতা বা মিডিয়া জগতেও নারীরা ব্যাপক হারে অংশ গ্রহণ করেছে, পেশা হিসেবে নারীদের পছন্দের আরেক দিক হলো সাংবাদিকতা। বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমানে প্রশাসনের উচ্চ পদে ৫৪৫ জন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। উপ-সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত অধিকাংশ পদগুলোতে নারী কর্মকর্তারা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সরকারের আমলে নারীর ক্ষমতায়নের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে বর্তমানে জনপ্রশাসনে সিনিয়র সচিব, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিব রয়েছেন কমপক্ষে ৮ জন; অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন ৮১ জন, যুগ্ম-সচিব পদগুলোর মধ্যে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ৮৭ জন। প্রশাসনের ১ হাজার ৮৪০ উপ-সচিব পদের মধ্যে নারী উপ-সচিব রয়েছেন কমপক্ষে ৩৬১ জন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সরকারী চাকুরীতে নারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮১৯ যাহা গত পাঁচ বছরে দাড়িয়েছে চার লাখের উপরে। গত দুই দশকে আমাদের দেশে নারীর কর্মসংস্থান প্রায় তিন ভাগের বেশি উন্নতি হয়ে ৩৮/৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।,

নারী সমাজের জীবনমানও আগের তুলনায় উন্নয়ন হচ্ছে এবং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্ম শতবর্ষ উৎযাপন উপলক্ষে সরকার কতৃক ঘোষিত মুজিব বর্ষে ৫০ লাখ প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিত নারীকে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে।এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আমাদের দেশের নারী-পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টায় সরকার কতৃক ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্থবায়ন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ ২০৪১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে উত্তরণ ঘটবে। বিনির্মান হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা এবং বাস্তবায়িত হবে ডেল্টাপ্ল্যান ২১০০। ,

নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি সারা বিশ্ব আজ বহুল আলোচিত এবং প্রশংসিত। নারী অধিকার ও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এমন কি বিশ্বের উন্নত অনেক দেশগুলোর চাইতে অধিক এগিয়ে আছে। নারী-পুরুষের সমতা (জেন্ডার ইক্যুইটি) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার শীর্ষে। বর্তমান সরকারের আমলে ঘরে বাইরে, রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে সর্বত্রই নারীর অংশগ্রহন নিশ্চিত হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমান করেছেন, কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নারীরা এখন র্ষ্ট্রা পরিচালনা সহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা রাখছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে ভূয়সী প্রশংসা করছেন। জাতিসংঘের এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ, শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা আনয়ন করায় স্বীকৃতিসরূপ ইউনেসকোর “শান্তি বৃক্ষ” এবং গেøাবাল উইমেন লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ অর্জন করেছে। হার্ভার্ড এবং ক্যালোফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ ভাবে করা ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডবিøউইএফ) জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্টে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নারীর অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্বের সবাইকে ডিঙ্গিয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে। ডবিøউইএফ-এর তথ্য অনুযায়ী নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৮তম অবস্থানে রয়েছে। ,

নারী উন্নয়নে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলভূক্ত ২৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অস্ট্রেলিয়ার পরই দ্বিতীয় শীর্ষে। বিশ্বের ৩৬টি নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় শীর্ষ। দ্য গেøাবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট -২০১৭ অনুযায়ী বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থান ছিল ৪৭ তম। যা দক্ষিণ এশিয়ার যে কোন দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানকেই নির্দেশ করে। স্বাধীনতার ৫১ বছরের মধ্যে তিন দশকের বেশী সময় ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা করছে নারী নেতৃত্ব। দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার নারী। এমন নজির হয়তো বা বিশে^ দ্বিতীয়টি আর নেই। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অকল্পনীয় অর্জন রয়েছে। বিশেষ করে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সরকার ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২০ সাল হতে সব রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। ,

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বের সপ্তম স্থানে রয়েছে।বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ এ উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমান জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন এবং নির্বাচিত ২২ জন সহ ৭২ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদে একজন নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ৩৩ শতাংশ আসন নারীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকারে বর্তমানে ১২০০০ বার হাজার জনের ও বেশী ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধি রয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে এই গনতান্ত্রিক সরকার স্বাধীনতার ৫০ বৎসরের মধ্যে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।নারী শিক্ষা প্রসারে সরকার নানাবিধ যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষা গ্রহনের ব্যাবস্থা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে কারণে আমাদের দেশে নারী শিক্ষার হার ৫০.৫৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।,

সরকার শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ফলে নারীরা শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার কারণে সরকারী-বেসরকারী চাকুরীতে নারীর অন্তর্ভুক্তি বা পদচারনের হার দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় সমাজের প্রতিটি পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সমান অধিকার মর্যাদার প্রশ্নে দেশের নারী সমাজ আজকাল অত্যন্ত সচেতন এবং তৎপর। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গ্রামীন এলাকার নারীদের ক্ষমতায়ন অর্থনৈতিক মুক্তি প্রদান এবং স্বনির্ভর হওয়ার জন্য পল্লী মাতৃকেন্দ্র কর্মসুচী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৪৯২ টি উপজেলায় ২৪ হাজার ৮০৬ গ্রামে মাতৃকেন্দ্র গঠন করে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৬ জন গ্রামীণ দুস্থ মহিলাকে মাতৃকেন্দ্রের সদস্য হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০৬ জনকে বিভিন্ন পেশায় বৃত্তিমুলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তোলার জন্য সরকার ঋণ প্রদানের ব্যাবস্থা গ্রহন করেছে। বর্তমানে ক্রমপুঞ্জিত এ ঋণের পরিমান ১৪১ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। ,

নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে গত এক যুগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও তৃণমূল পর্যন্ত নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে নারী অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। নারীর সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতে সরকার ইতিমধ্যেই পারিবারিক সহিংসতা দমন ও নিরাপত্তা আইন -২০১২, মানব পাচার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১১; বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন -২০১৭, শিশু আইন-২০১৩, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন-২০১২ প্রণয়নসহ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিভাগীয় পর্যায়ে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার খোলা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ধর্ষনের আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষার বহুল সমালোচিত ও অবমাননাকর ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার করেছেন। অপরদিকে, কোভিড-১৯ মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করেন এবং বান্তবায়ন করেন। যাহা থেকে নারী উদ্যোক্তারাও এ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বরাদ্দ নিয়েছেন। এছাড়াও সরকার নারী উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করছে, ফলে দেশে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।,

নারী উন্নয়নে সরকার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কর্মজীবি নারীদের নিরাপদ আবাসনের জন্য ৯টি কর্মজীবী নারী হোস্টেল ও তাদের শিশুদের সুরক্ষার জন্য ১১৯টি শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের অন্যতম সুচক হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশ গ্রহন। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহনের হার ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় তৈরী পোষাক খাতকে কর্মরত প্রায় ৮ মিলিয়ন শ্রমিকদের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই নারী। আবার দেশের বৃহত্তম সেবা খাত হলো স্বাস্থ্যসেবা, যেখানে কর্মরতদের ৭০ শতাংশের বেশী নারী। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর মতে দেশের উৎপাদনে (জিপিডি) তে নারীর অবদান ২৫ শতাংশের বেশী।,

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা ও সাহসী নেতৃত্বে সরকার নারীদের যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নারী শিক্ষার বিস্তার, অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়নসহ নারীর প্রতি সবধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এই সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, কর্মসূচি ও পদক্ষেপের সফল বাস্তবায়নের ফলে দেশে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন আজ সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। নারী উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় সমাজের দুস্থ, অসহায় ও পিছিয়ে পরা নারীদের জন্য ভিজিএফ, ভিজিডি, দুস্থ ভাতা, বয়স্কা নারীদের জন্য বয়স্কা ভাতা, মাতৃকালীন ও গর্ভবতী মায়েদের ভাতা, অক্ষম মা ও স্বামী পরিত্যাক্তাদের জন্য ভাতা, বিধবা ভাতা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি সহ বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন করেছেন। সর্বক্ষেত্রে সন্তানের পরিচয় ও জন্মনিবন্ধনে বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নামও সংযুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ,

ব্যাবসা-বানিজ্য, রাজনীতি, সমাজনীতি বিশেষ করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টর যথা বিচার বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন, কুটনীতি, সাংবাদিকতা বা মিডিয়া জগত, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃংখলা রক্ষাকরী বাহিনী, শান্তিরক্ষা মিশন সহ সর্বক্ষেত্রেই নারীর সফল অংশগ্রহনের মাধ্যমে দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং নারীর ক্ষমতায়ন দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এডভোকেট আব্দুল হান্নান রঞ্জন সহ-সভাপতি, নেত্রকোণা সাধারণ গ্রন্থাগার এবং সাবেক সহ-সভাপতি, নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাব।

 

শেয়ার করুন:

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

© All rights reserved © 2021 dainikjananetra
কারিগরি সহযোগিতায় পূর্বকন্ঠ আইটি