বিশেষ প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ ইনছান মিয়ার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে উধাওয়ের অভিযোগ উঠেছে। গত ১বছর ধরে ব্যবসায়ী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারসহ সাধারণ মানুষের সাথে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে।
এর মধ্যে পরিষদের টেক্সের ৬লক্ষ টাকা, জন্মনিবন্ধনের ২লক্ষ টাকা, পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডের গরু কোয়ারের ২২হাজার টাকাসহ সুবিধাভোগী হতদরিদ্রদের কাছ থেকে ভিডবিউবি প্রকল্পের কার্ড, মাতৃত্বকালীন ভাতা,সাবমারসিবল, টিসিবি কার্ড, টিউবয়েল দেওয়ার কথা বলে ফকির মিছকিন ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে গত দুই মাস ধরে পরিষদে অনুপস্থিত রয়েছে। প্রতিদিন শতশত সুবিধাভোগীরা পরিষদে এসে জন্ম ও মৃত্যৃ নিবন্ধনসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে ইউনিয়নবাসী বিপাকে পরেছেন।
অভিযোগে জানা যায় সিরামপাশা গ্রামের আহাদ মিয়াকে সাবমারসিবল দেওয়ার কথা বলে ৪৫০০০, টাকা। সিয়াধার গ্রামের শামছু মিয়া থেকে ভিডবিউবি প্রকল্পের কার্ডের নামে ২০০০হাজার টাকা, ফুটিওগা গ্রামের সানি মিয়াকে টিউবয়েল দেওয়ার নামে ৩০০০০,হাজার টাকা, সিয়াধার গ্রামের শামিম মিয়াকে টিউবয়েল দেওয়ার নামে ৩৫০০০,হাজার টাকা, ডাঃ মোমেন মিয়া কূশিমূইল বাজারে সাবমারসিবল দেওয়ার নামে ৩০০০০, হাজার টাকা, ঝর্ণা আক্তার মাইজহাটি গ্রাম এর অসহায় নারীর কাছ থেকে টিসিবি কার্ড ও জমিতে মটার দেওয়ার নামে ৪৫০০০ হাজার টাকা, মোহনগঞ্জ পৌরসভার বাসার মালিক বাবলু মাস্টার এর কাছ থেকে ১,৫০০০০, হাজার টাকা, বেতাম গ্রামের মুখলেছুর রহমানকে টিউবয়েল দেওয়ার নামে ১৫০০০ হাজার টাকা, মানশিরি গ্রামের মাজু মিয়ার কাছ থেকে টিউবয়েল দেওয়ার নামে ১৭০০০, হাজার টাকা,৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আফতাব মিয়াকে টিউবয়েল দেওয়ার নামে ১৭০০০,হাজার টাকা, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নজরুল মিয়ার কাছ থেকে ৪৫০০০, হাজার টাকা। ৬নং ওয়ার্ডের সভাপতি রহমত আলীর কাছ থেকে দুটি টিউবয়েল দেওয়ার নামে ২৫০০০,হাজার টাকা নিয়েছে। পেট্টোল ব্যবসায়ী আজিজের কাছ থেকে ১০০০০, হাজার টাকা, নওহাল গ্রামের রুমান মিয়ার থেকে সাবমারসিবল দেওয়ার নামে ২৭০০০, টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এই ভাবে উপজেলার ৪নং মাঘান সিয়াধার ইউনিয়ন এর ২০টি গ্রামের শতশত সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে প্রায় ২০,লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগীরা ফোন দিলে পরিবারের শারিরিক অসুস্থ্যতা, ঢাকায় ট্রেনিং আছে এবং কাউকে বলছে দলিও নেতা আছে। ফোন দিলে আদালতে মামলা করবে। এই ভাবে সে পাওনাদার লোকজনদেরকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
সরকারি অফিস সূত্রে জানা যায় গত রবিবারে মাঘান সিয়াধার ইউনিয়ন পরিষদ সচিব দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদে বদলি হয়ে চলে গেছে। পরিষদের ১.২.৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য স্বপ্না আক্তার বলেন, ইউপি সচিব ইনছান মিয়া শতশত মানুষের টাকা পয়সা নিয়ে গত দুই মাস ধরে পালিয়েছে । প্রতিদিন শতশত মানুষ টাকার জন্য পরিষদে আসছে তারা সচিবকে পাচ্ছেনা। পরিষদের সচিব ইনছান মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সে জানায় কারও কাছ থেকে টাকা পয়সা নেয়নি। সিয়াধার মাঘান ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দুর্নীতির বিষয় নিয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা খাতুন বলেন, অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply