দিলওয়ার খান,বিশেষ প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ভর্তি রোগীদের মধ্যে পানির বোতল ও কেক বিতরণের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠার পর নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ,
গত ২৪ আগস্ট অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি২৪লাইভে দৈনিক দেশ কণ্ঠস্বর ও জননেত্র পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে ঘটনাটি। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—ডা. কল্যাণী রানী ঘোষ, ডা. জান্নাতুল নেসা চাঁদনী ও ডা. রাকিবুল ইসলাম। ৩ সদস্যের তদন্ত দল ৫ সেপ্টেম্বর মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন সিভিল সার্জনের কাছে জমা দেয়ার পরই সরকারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কীভাবে এবং কার উদ্যোগে ১৫ আগস্টের এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।,
গত ১৫ আগস্ট মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মাঝে পানির বোতল ও কেক বিতরণ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অলক কান্তি তালুকদারের নির্দেশনায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেলেও আয়োজনটির প্রকৃত উদ্যোক্তা, অর্থের উৎস এবং সরকারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ ধরনের কর্মসূচি পালনের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।এদিকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডা. অলক কান্তি তালুকদার স্বাচিবের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে ওই আয়োজনের সঙ্গে কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।,
সরকারি কোনো স্থাপনা বা সরকারি অফিসে এ ধরনের কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হলো, সেটি নিয়ে আমরাও হতবাক হয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতাল মূলত সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিষ্ঠান। সেখানে কোনো বিশেষ দিবস উপলক্ষে এ ধরনের আয়োজন কার অনুমতিতে, কোন অর্থে এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে—তদন্তে এসব বিষয় উঠে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এখন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্তে অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
Leave a Reply