মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন

৮০০শ মৃতদেহ মর্গে বহন করেছেন কেন্দুয়ার বাবুল শেখ

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪০০ পঠিত

 

কেন্দুয়া প্রতিনিধি : মো. বাবুল শেখ (৫৬), পিতা-মৃত আব্দুল কদ্দুস শেখ, মাতা-জুলেখা খাতুন । ৩ বোন ও ২ভাই তার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৫ মেয়ে ও ২ছেলে সন্তানের জনক । নেত্রকোণার কেন্দুয়ার চিরাং ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা তিনি । স্থানীয়ভাবে ডোম হিসেবে পরিচিত অনেকের কাছেই ।,

তিনি ৩৫ বছর ধরে অস্বভাবিক মৃত্যুর মরদেহ বহনের কাজ করে চলেন। তিনি  হিন্দু, মুসলিম বা নাম-গোত্র ও ধর্ম পরিচয়হীন প্রায় ৭০০/৮০০ লাশ বা মৃতদেহ বহন করে নেত্রকোনা মর্গে নিয়ে যান পরম মমতা ও দায়িত্ববোধ থেকে। তিনি জানান, ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় লাশ উদ্ধার ও বহনের কাজ শুরু করি। ,

প্রথম একাজ করি কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের আউজিয়া বাইঙ্গনি এলাকায় ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিলেন এক ব্যাক্তি তার লাশ বহনের মাধ্যমে।  মাসকা ইউনিয়ন পরিষদের তখনকার চেয়ারম্যান মো. জহুরুল আলম ভূঁইয়া স্বপন চেয়ারম্যানের আহ্বানে ছুটে গিয়েছিলাম সেখানে,সেই থেকে শুরু। মো. বাবুল শেখ আঙুলে গুনে ও টাউর করে বলেন, এ পর্যন্ত  প্রায় ৭০০শ থেকে ৮০০শ লাশ বহন করেছি ।,

দিন কিংবা রাতে, ঝড় বাদল যে কোন পরিস্থিতিতে সিএনজি চালিত গাড়ি দিয়ে লাশ আনা নেওয়া করি ।  পুলিশ বা লাশের স্বজনদের কাছ থেকে যখন যা পারিশ্রমিক পাই তা-ই নিই । এমনও হয়েছে নিজ হাত থেকে উল্টো খরচও  দিয়েছি।
তিনি বলেন,লাশ বহনের কাজ করতে গিয়ে প্রথম প্রথম কিছু ভয় পেলেও এখন আর ভয় পাই না। বরং পুলিশের সাথে লাশের প্রাথমিক সুরতহালও করে থাকেন বলে জানান বাবুল শেখ। তাছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে বিভিন্ন সময় বাধা ও ঘৃণার সম্মুখীনও হয়েছেন তিনি । এখন আর কেউ কিছু বলেন না ।,

বাবুল শেখ আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় ৫/৭ মাস আগে ১ লাখ টাকা ঋণ করে ও অনেকের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে দেড় লাখ টাকায় লাশটানার একটি সিনজি গাড়ি ক্রয় করেছিলাম। ঋণের কিস্তি দিতে খুব কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আর্থিক অনুদানের জন্যে আবেদন করেছি এখনও কিছু হয়নি। অপেক্ষায় আছি নতুন বছরের জন্য, দেখি কি হয়।,

অপমৃত্যু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর লাশ বহন করা ছাড়া অর্থ উপার্জনের জন্যে আর কিছু করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে গাড়িতে লাশ আনা-নেওয়া করি, সেই গাড়িতে যাত্রী ওঠে না । তাই ভাড়া করে অন্যের গাড়িতে যাত্রী আনা নেয়া করেও কিছু আয় রোজগার করে টেনেটুনে সংসার চালাই ।,

দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত থানা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিগত দিনে প্রায়শই আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়ে মামলা মোকদ্দমায় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন । তবে পুলিশের সাথে সব সময়ই তাঁর একটি বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক ছিলো যার জন্য  তেমন অসুবিধা তার হয়নি।,

কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে বাবুল শেখ সম্পর্কে তিনি বলেন, মো. বাবুল শেখ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ । কেন্দুয়া পুলিশ প্রশাসনের সাথে তাঁর একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা ডাকলে সব সময়ই তাকে পাই।,

বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদার বাবুল শেখের আর্থিক আবেদনের বিষয়ে বলেন,এ মুহূর্তে আর্থিক অনুদান দেয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া বিষয়টি সরকারি নিয়মের ভেতরও পড়ে না।,

 

 

ব্যাকগ্রাউন্ড
বর্ডার
শিরোনাম
ফন্ট: 55px
Version 4.7 | Developed by Shahin
×

📜 প্লাগইন ব্যবহার বিধি

  • 'ফটো কার্ড তৈরি করুন' বাটনে ক্লিক করুন।
  • আপনার পছন্দমতো শিরোনাম ও রঙ পরিবর্তন করুন।
  • জেনারেট হতে ৫-১০ সেকেন্ড সময় দিন।
  • জরুরী প্রয়োজনে: ০১৭১১৭৯৬৮৩৯
শেয়ার করুন:
এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

© All rights reserved © 2021 dainikjananetra
কারিগরি সহযোগিতায় Shahin.bd