বিশেষ প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘টিম রনি’। জেলা শহরে কোর্ট স্টেশন প্রাঙ্গণে সকাল থেকে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রতিদিন ৬ শতাধিক হতদরিদ্র ও পথচারীর মাঝে ইফতার বিলাচ্ছেন দায়িত্ব বণ্টন করে। কেউ রান্না করছে। কেউ প্যাকেট করছেন আর কেউ বিলাচ্ছেন ইফতারের প্যাকেট। রোজার শুরুর দিন থেকে একমাস ব্যাপী আয়োজন এভাবেই চলছে কার্যক্রম। রমজানে এক মাস ধরে নেত্রকোনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘টিম রনি’ বিনা পয়সায় পথচারী ও অসচ্ছল রোজাদারদের ইফতারি করানোর জন্য সংগঠনটি এ আয়োজন করে আসছে কয়েক বছর ধরে।
তাদের দাবি, এটি চলবে শেষ রোজা পর্যন্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার সময় থেকে সংগঠনটি তাদের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম শুরু করে। এরপর বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেন তারা। শহরের পথঘাট পরিষ্কার করা, খাল-নালা পরিষ্কার। এরপর তারা শুরু করেন রোজায় ইফতার বিতরণ। রমজানের শুরু থেকেই প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, জনবহুল এলাকাতে প্রায় ৬ শতাধিক মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। ইফতারির সার্বিক দায়িত্বে থাকা রাজন মিয়া ও সৈয়দ অন্তর জানায়, করোনার পর থেকে ৬শ’ মানুষের আয়োজন করা হয়।
শহরের জনবহুল গুরুত্বপূর্ণ স্থান নির্বাচন করা হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে রোজাদারের জন্য ইফতারি সরবরাহ করা হয়।সংগঠনের জিনিসপত্র কেনার দায়িত্বে থাকা রাজন মিয়া জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ২৮ থেকে ৩৫ হাজার টাকা জিনিসপত্র কেনা হয়। এ আয়োজন সফল করার জন্য প্রতিবছর রোজার আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ইফতারি বিলিবণ্টন ও তদারকির জন্য রয়েছেন ৩০-৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবক। প্রতিদিন ভুনা খিচুড়ি, ডিম, মুরগির আয়োজন করা হচ্ছে।
গত ৩ মার্চ দুপুরে শহরের রেল স্টেশন প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, ৩০-৩৫ জনের একটা টিম রান্নাবান্নায় ব্যস্ত, খিচুড়ি, ডিম, মুরগের রান্না চলছে। উপস্থিত সবাই যে যার মতো কাজ করে চলছেন। বাবুর্চি মো. আকবর মিয়া ও আবদুস সালাম জানান, তারা দুজন ৬ বছর ধরে এখানে ইফতারি তৈরির কাজ করছেন। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে কাজ শুরু করেন। কাজ চলে ইফতারের পর পর্যন্ত।
টিম রনির প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি বলেন, বেশ কয়েক বছর আগেই আমরা ইফতার বিতরণের কাজটি শুরু করি। পরে সেই সময়ের সরকার দলীয় লোকজন আমাদের বাধা দিতো। এজন্য কিছু সময় আমরা করতে পারিনি।
এখন আমরা সাধ্যমতো রোজাদারদের ইফতার আয়োজন করছি। আমাদের ইচ্ছা আছে ভাল কিছু করার কিন্তু সাধ্য নেই। তবুও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন সামাজিক কাজ আমরা করছি। মানুষের কল্যাণে আমাদের কাজ চলমান থাকবে।
Leave a Reply