সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

খালিয়াজুরীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে সরকারি কর্মচারী দম্পতি দগ্ধ

মো: হাবিবুল্লাহ
  • আপডেট : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ৬১ পঠিত

খালিয়াজুড়ি  প্রতিনিধি:  নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার সরকারি কোয়ার্টারের বারান্দার গ্রিলে সরকারি কর্মচারী দম্পতি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ।  এমতাবস্থায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ পাঁচ সদস্য। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সরকারি কর্মচারী মো. সুমন মিয়া (৩৮) বাদী হয়ে ১৪ জুন  খালিয়াজুরী থানায় ২ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন কলমাকান্দা থানার ওয়াজেদ আলী ফকির এবং খালিয়াজুরী মুসলিমপাড়ার জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৮)। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. সুমন মিয়া খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত।

তিনি তার পরিবারসহ উপজেলা স্টাফ কোয়ার্টারের ‘যমুনা’ ভবনের নিচ তলায় বসবাস করেন। বেশ কিছুদিন আগে অভিযুক্তরা বাদীর অনুমতি ছাড়াই তাঁর বসবাসের রুমের বারান্দার মেইন সুইচ থেকে নিম্নমানের তার দিয়ে, কোনো নিরাপদ সার্কিট ব্রেকার ছাড়াই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে, পাশের বিল্ডিংয়ে কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু করে।  বাদী সুমন মিয়া ও তাঁর স্ত্রী এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক সেই ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ বহাল রাখে। একপর্যায়ে লাইনটি বিচ্ছিন্ন করা হলেও তারা আবারও গোপনে সংযোগটি স্থাপন করে। ০৬ জুন কোরবানি ঈদের ছুটির পরে সুমন মিয়া স্বপরিবারে বাসায় ফিরে আসার পর বারান্দার গ্রিলে থাকা গামছা নিতে গেলে গ্রিলটি বিদ্যুতায়িত থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যান। তাঁর চিৎকার শুনে স্ত্রী মোছা. হাসনাহেনা তাঁকে উদ্ধার করতে মেইন সুইচ বন্ধ করার চেষ্টা করলে, বারান্দার গ্রিলের সাথে হাত লেগে তিনিও গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়ে পড়েন।  সে সময় ঘরে থাকা সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বড় মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস (১৩) তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে নিজে গ্রিল স্পর্শ না করে, চিৎকার শুরু করে এবং ছোট ২ ভাইবোনকে আগলে রাখে।

পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মেইন সুইস বন্ধ করে,  অচেতন অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।  পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণে সুমন মিয়ার ডান হাত এবং তাঁর স্ত্রীর বাম হাতের তালু ও ডান পা গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে।  ভুক্তভোগী সুমন মিয়া বলেন, ‘অভিযুক্তদের খামখেয়ালিপনার কারণে আজ আমাদের পুরো পরিবারটি শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ,বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ।

 

ব্যাকগ্রাউন্ড
বর্ডার
শিরোনাম
ফন্ট: 55px
Version 4.7 | Developed by Shahin
×

📜 প্লাগইন ব্যবহার বিধি

  • 'ফটো কার্ড তৈরি করুন' বাটনে ক্লিক করুন।
  • আপনার পছন্দমতো শিরোনাম ও রঙ পরিবর্তন করুন।
  • জেনারেট হতে ৫-১০ সেকেন্ড সময় দিন।
  • জরুরী প্রয়োজনে: ০১৭১১৭৯৬৮৩৯
শেয়ার করুন:
এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

© All rights reserved © 2021 dainikjananetra
কারিগরি সহযোগিতায় Shahin.bd