দিলওয়ার খানঃ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের আসন্ন ইউএস সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. কারিশমা মঞ্জুর। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশি-আমেরিকান এই বিজ্ঞানীর পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁর মা রানা মাহফুজা মঞ্জুর এবং বাবা প্রয়াত মেজর জেনারেল (অব.) বীর উত্তম মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নোয়াখালীতে। অন্যদিকে, তাঁর মাতৃকুলের শিকড় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার গোয়াতলা গ্রামে।
ড. কারিশমা মঞ্জুরের নানা ছিলেন দেশের বিশিষ্ট টেক্সটাইল প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন খান। তিনি ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডে টেক্সটাইল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সে সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রথম দিকের ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন, যিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন।
মফিজ উদ্দিন খান বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষার বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পরিবারের আরও ২ ভাই ছিলেন—বড় ভাই ওয়াফিজ উদ্দিন খান এবং মেজ ভাই নোয়াফিজ উদ্দিন খান।
পারিবারিক নানা রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে ১৯৮১ সালে কারিশমা মঞ্জুরের পরিবারকে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিদেশে চলে যেতে হয়। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা কারিশমা মঞ্জুর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিজ্ঞানী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বর্তমানে তিনি পারিবারিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত। তিনি বিবাহিত এবং ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জননী। তাঁর মেয়ের বয়স ১৯ বছর এবং ছেলের বয়স ১৬ বছর।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারী বিজ্ঞানীর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের প্রবাসী ও দেশবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন তাঁর স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা। বিশেষ করে নিউ হ্যাম্পশায়ারে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের প্রতি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতা এবং ভোট প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ড. কারিশমা মঞ্জুরের খালাতো ভাই, প্রত্নতত্ত্ববিদ, ব্যাংকার ও ফান্ড ম্যানেজার মুহাম্মাদ মাসুদ খান তাঁর বোনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ড. কারিশমা মঞ্জুর আজ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে লড়াই করছেন। তাঁর এই পথচলা শুধু পরিবারের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও অনুপ্রেরণার।
তিনি বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর বোনের জন্য দোয়া কামনা করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে নিউ হ্যাম্পশায়ারে বসবাসরত ভোটারদের প্রতি ড. কারিশমা মঞ্জুরকে সমর্থন, তাঁর পক্ষে প্রচারণা এবং ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।
মুহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে তাঁর জন্য দোয়া করতে পারি। একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী বিজ্ঞানী যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে তা আমাদের সবার জন্য গর্বের বিষয় হবে।”
ড. কারিশমা মঞ্জুরের পরিবার ও স্বজনরা আশা করছেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে তিনি সফলতা অর্জন করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করবেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ড. কারিশমা মঞ্জুরের এই নির্বাচনী লড়াই নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা।
Leave a Reply