বিশেষ প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে বিএনপির কর্মীদের হামলায় নুরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার দুইজন শিক্ষক আহত। বিগত ২৪শে মে নুরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র শরীফ মিয়ার সাথে উক্ত মাদ্রাসার সদ্য দাখিল পরীক্ষা দিয়েছে মোঃ মুহতাসিম বিল্লাহ আলীর মোবাইল ফোনের বিষয় নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়। এর জের ধরে আলীর বাবা বিএনপির মেন্দিপুর ইউনিয়নের, ০৬ নং ওয়ার্ড কর্মী ছদ্দু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সুজন মিয়ার হুকুমে ২৫ শে মে বেলা ১০:৪০ মিনিটের সময় , মোটরসাইকেল সমিতির মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মৃত লাক্ষু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রাজিব মিয়া, ছদ্দু মিয়ার ছেলে ছোটন মিয়া , হোসেন মিঞার ছেলে কাউসার মিয়া, আব্দুর রউফ মিয়ার ছেলে বায়েজিদ মিয়া, ও সুজন মিয়ার ছেলে মুহতাসিম বিল্লাহ আলী, গং সর্বসাং নুরপুর বোয়ালী খালিয়াজুরী নেত্রকোনা, ব্যক্তিগণ অতর্কিতভাবে বিনা অনুমতিতে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় শিক্ষক কর্মচারীদের গালিগালাজ করে ।
উক্ত সময়ে সহকারী শিক্ষক তারেক রব্বানী , শিক্ষক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপার মিরাশ উদ্দিন এগিয়ে এসে, উল্লিখিত বিষয় জানতে চাইলে , রাজিব মিয়া,ছোটন মিয়া সহ, তারা সকলে মিলে উক্ত দুইজন, শিক্ষকের উপর আক্রমণ করে, কিল ঘুসি মারে এবং টানা হেঁচড়া করে মাদ্রাসার বাহিরে নিয়ে যেতে চাইলে, তাদের হই হুল্লার শুনে সহকারী শিক্ষক আহসানুল হক , নৈশ্য প্রহরী মোফাজ্জল হোসেন, মাদ্রাসার পাশের দোকানের মালিক মোঃ আবু হুরায়রা দৌড়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করেন। পরে সকল শিক্ষক কর্মচারীগণ মাদ্রাসার লাইব্রেরীর ভিতরে প্রবেশ করে, দরজা জানালা বন্ধ করে তাদের আত্মরক্ষা করেন । তারপরও উল্লেখিত সন্ত্রাসী বাহিনী শান্ত না হয়ে মাদ্রাসার গেইটের বাহিরে গিয়ে মাদ্রাসার লাইব্রেরীকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে, প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং যে কোন সময় যে কোন জায়গা পেলেই মারপিট করবে বলে ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্ট, মেন্দিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান চৌধুরী সাথে কথা বলে জানা যায় তারা ঘটনা শুনেছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তারা সকলেই বলেন , আমরা এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি এবং এর সুষ্ঠু বিচারেরদাবি করছি ।
উক্ত মাদ্রাসার সুপার মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন মাদ্রাসাটি ১৯৭৫ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । মাদ্রাসার বয়স প্রায় ৫০ বছর কিন্তু এরকম ঘটনা কোনদিন ঘটেনি। উক্ত ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আমরা মাদ্রাসার সকল শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যমত পোষণ করে লিখিতভাবে আইনগত বিচার দাবি করে, আমাদের মাদ্রাসার সভাপতি ও খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং খালিয়াজুরী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছি ।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও খালিয়াজুরী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর উক্ত আবেদনের অনুলিপি কপি প্রেরণ করেছি।খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, আমি অভিযোগের কপি পেয়েছি, আসলে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক । আমি আইনগতভাবে উক্ত বিষয়ের তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার করব ।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ উজ্জল হোসেন বলেন, আমি উক্ত ঘটনার লিখিতভাবে অভিযোগ পেয়েছি, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে , দোষীদের আইনের আওতায় এনে, সুষ্ঠু বিচার করে, শিক্ষক কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব।
Leave a Reply