আটপাড়া প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার আটপাড়ায় কালিয়াখালী খালের সুইচ গেইট সংলগ্ন পরিত্যক্ত ব্রীজের নীচে বাঁশ,বাণা ও জাল দিয়ে সম্প্রতি অবৈধ ভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে সমিতির সাবেক সভাপতি গ্রামের মস্তব আলীর ছেলে সাদেক মিয়া (৩৫)এর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুনই ইউনিয়নের কালিয়াকালি খাল কালিয়াখালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ২০২৫ সালে ইজারা নেয়। সেই সমিতির সাবেক সভাপতি সাদেক মিয়ার নেতৃত্বে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করে ব্রীজের নীচে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছে অসৎ মাছ বিক্রেতা সাদেক । এতে একদিকে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে খালের পানির স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন ঘটছে।
এখানে উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর ব্রীজের গোড়ায় বাঁশ,বানা ব্রীজের গোড়ায় কোপায় ব্রীজটিও এক সময় দেবে যায় এবং পরবর্তীতে ব্রীজ দিয়ে পথচারীর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর সমিতির মৎস ব্যবসায়ী সাদেক ও পৃর্বের ইজাদাররা এভাবে ব্রীজের গোড়ায় বাঁশ গাড়ায় মাটি সরে গিয়ে ব্রীজটি দেবে যায়। ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী এলাকাবাসীর। এখানে উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ দিন যাবত অবৈধ বাঁধ অপসারণ না করায় ৮ সেপ্টেম্বর থানা পুলিশসহ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অভিযানে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফকির আনোয়ার হোসেনের বাঁধার মূখে আংশিক বাঁধ অপসারণ করেই ফিরে আসেন। এছাড়াও শুনই ইউনিয়নের কালিয়াখালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর নবাগত ১২০ দিনের দায়িত্ব প্রাপ্ত বর্তমান সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, সুইচ গেইট সংলগ্ন পরিত্যক্ত ব্রীজের নীচে যে বাঁধ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
তিনি আরো জানান, আমিসহ সমিতির অন্যান্য সদস্যদের বঞ্চিত করে একক ভাবে সাবেক সভাপতি সাদেক মিয়া খাল ভোগ দখল করছে। এব্যপারে তিনি সহ অন্যান্য সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নির্বাহী অফিসার কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী প্রতি বছরের ন্যায় কালিয়াখালি খালের ইজারাদারের নিয়ম বহির্ভূত ভাবে দেওয়া বাঁধ অপসারণের দাবী জানান।
এদিকে জেলা প্রশাসক,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ জামান খানকে বিষয়টি অবহিত করলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান,বাঁধ অপসারণের কথা ইজারাদার কে বললে ইজারাদার একদিনের সময় চান এবং তিনি সময় ও দিয়েছেন বলে জানান। তবে বাঁধের বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত আটপাড়া ইউএনও খবিরুল আহসান ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে গণমাধ্যমকর্মীরা অবহিত করলেও ৭ দিনেও সম্পুর্ন বাঁধ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান খুব দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply