বিশেষ প্রতিনিধি:ওয়াজ মাহফিল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ ওয়াজ মাহফিল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। ৩০ নভেম্বর গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের মনাটী গ্রামের মোহাম্মাদিয়া নূরিয়া ইব্রাহীমিয়া মান্নানিয়া কওমী মাদরাসার সামনের সড়কে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।,
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, অত্র মাদরাসার সদস্য সচিব হাফেজ মৌলভী আনোয়ার শাহ আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ক্বারী ইসমাইল হাবিব উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল কদ্দুস, ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম শাহ অলি উল্লাহ, সহকারী শিক্ষক হাফেজ সম্রাট হোসেনসহ অন্যান্য এলাকাবাসী।,
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দ্বীনী শিক্ষা প্রসারের লক্ষে অত্র এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ইব্রাহীম ও আব্দুল মান্নান বিগত ২০০৮ সালে অত্র জমি দান ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।,
দির্ঘ ১২ বছরেও মাদরাসা পরিচালক হেদায়েত উল্লাহর নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি ও নারী কেলেংকারী কারনে একদিকে মাদরাসার ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছিল, অপরদিকে মাদরাসার কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে না পারায় এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী তাকে মাদরাসা থেকে অপসারণ করে তার পদস্থলে মাওলানা শাহ অলি উল্লাহকে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিমের দায়িত্ব অর্পন করে।,
এরপর থেকে মাদরাসায় নিয়মিত পড়াশুনার মান ভালো ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রায় একমাস পূর্বে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তহবিল সংগ্রহ ও মাদরাসা অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষে ৩০ নভেম্বর বার্ষিক ইসলামী সম্মেলনের আয়োজন করে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা শুরু করে। মাদরাসা থেকে বিতারিত করে দেয়া হেদায়েত উল্লাহ গংরা ইসলামী সম্মেলন করতে হলে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে, অন্যথায় সম্মেলন বন্ধ করার হুমকি দেয়।,
পরবর্তীতে হেদায়েত উল্লাহ তার (মাকে হাতিয়ার হিসেবে পুঁজি করে) সভাস্থলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন বিষয়টি উপস্থাপন করে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করে। পরে নির্বাহী কর্মকর্তা গৌরীপুর থানা কর্তৃপক্ষকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দেয়। পরে গৌরীপুর থানা পুলিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাখিল করলে উপজেলা প্রশাসন ইসলামী সম্মেলন বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেন।,
এ ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে হেদায়েত উল্লাহ গংদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ইসলামী সম্মেলন করার অনুমতি দেয়ার জোর দাবি জানান। পরে মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে।
Leave a Reply