কেন্দুয়া প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কেন্দুয়ার সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা নামের ভয়াবহ প্রহসন চলছে। কোটি টাকার অবকাঠামো নির্মাণ। দৃষ্টিনন্দন ভবন কিন্তু শ্রেণিকক্ষে অবহেলা আর উদাসীনতার কুয়াশা চাদরে ঢাকা। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয়ের পাশের হার মাত্র ১৩ শতাংশ। যা উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্ন , সবচেয়ে লজ্জাজনক।
১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান আজ অরাজকতা আর দায়িত্বহীনতার প্রতীক। অনুমোদিত ১৬ জন শিক্ষকের বদলে কর্মরত মাত্র ১৩ জন। ভূগোল, আইসিটি, চারু ও কারুকলার একটিও ক্লাস হয় না। কারিগরি শাখায় থাকা উচিত ১২ জন শিক্ষক। কিন্তু আছে মাত্র ১ জন। তবে কারিগরি শাখায় সবচেয়ে ভালো ফলাফল এনেছেন একমাত্র এই শিক্ষক।
গত ১৩ জুলাইয়ে সরেজমিনে গেলে ভয়ঙ্কর চিত্র দেখা মেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৬১ জনের মধ্যে উপস্থিত মাত্র ২৩, সপ্তম শ্রেণিতে ৭৯ জনের মধ্যে ২৭,অষ্টম শ্রেণিতে ৬২ জনের মধ্যে ১১জন, নবম শ্রেণিতে ৭৬ জনের মধ্যে ১৮ জন,দশম শ্রেণিতে ৭৫ জনের মধ্যে মাত্র ২০জন শিক্ষার্থী। এই উপস্থিতি ও ফলাফলের চিত্র প্রমাণ করে এখানে শিক্ষা নয়, চলছে প্রহসন। আধুনিক ভবনের আড়ালে সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয় আজ ‘শিক্ষার কবরস্থান’। এলাকাবাসীর ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা সরাসরি বলছেন,বিদ্যালয়ে ক্লাস হয় না, শিক্ষকরা দায়িত্বই নেন না। টাকার লোভে সবাইকে পরীক্ষায় বসানো হয়েছে। এখন এলাকার মানুষকে লজ্জা নিয়ে মাথা নিচু করতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক গোলাম মস্তুফা বলেন, রেজাল্ট নিয়ে আমরা লজ্জিত। তারপরও তিনি দায় চাপালেন শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি আর অভিভাবকদের ওপর। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন তাহলে শিক্ষক আর প্রশাসনের কাজ কী? এলাকাবাসী কোনো অজুহাত শুনতে নারাজ। তাদের দাবি, অবিলম্বে সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা আর দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিন।
Leave a Reply