পূর্বধলা প্রতিনিধিঃ আমাদের পূর্ব পুরুষদের এক সময়ের কাচারি ঘর গ্রাম-বাংলার আভিজাত্যের প্রতীক ছিল যারা ধনী ও সম্পদশালী ছিল তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে কাচারিঘর থাততো। মেহমানখানা ও মক্তব মোসাফির খানা হিসেবে ব্যবহার হতো, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহি কাচারি ঘর। আরো কালের আবর্তে এখন বিলুপ্তির পথে কাচারি ঘর। এখন গ্রাম-গঞ্জের হাতেগোনা দু’একটা বাড়িতে কাচারি ঘরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। আামাদের পূর্বধলা রাজপাড়া হাজী বাড়িতে এখনো একটি কাচারি ঘর দেখতে পাই তবে, তা জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
এই হাজী বাড়ির একজন বংশধর আলমগীর বাশার সুমন বলেন, আমরা দেখেছি এই কাচারি ঘরে বিভিন্ন সময় বৈঠক বসতো, মাঝেমধ্যে এখানে নামাজও আদায় করা হতো। ২৭ রমজানে আমরা ইফতারি ও সেহেরীসহ এই ঘরে এলাকাবাসী মিলে আমরা খেয়েছি,বসেছ,আড্ডা দয়েছি। এই কাচারি ঘরটি আমাদের বাসা থেকে একটু দূরে ছিল কিন্তু এখন বংশবৃদ্ধির ফলে বাসা বাড়ি বৃদ্ধি হয়েছে,সকলের ঘরেই ড্রয়িং ডাইনিং এর ব্যবস্থা আছে যার ফলেই কাচারি ঘরের প্রতি কারো এখন আগ্রহ নেই। একসময় গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ গৃহস্থের বাড়িতেই ছিল কাচারি ঘর।
কাচারি ঘর ছিলো গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য,কৃষ্টি ও সংস্কৃতির একটি অংশ। কালের বিবর্তনে আজ কাচারি ঘর বাঙালির সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। গেস্টরুম কিংবা ড্রয়িং রুমের আদি ভার্সন কাচারি ঘর। এখন আর গ্রামীণ জনপদে কাচারি ঘর দেখা যায় না। এ ঘরেই রাতযাপন করতেন বেড়াতে আসা অতিথি অথবা পথচারী বা মুসাফিরগন। অনেক সময় জায়গীর বা লজিং মাস্টারও এ ঘরে থাকতেন। যে কারণে সেসময় রাতের বেলা বাড়িতে চুরি-ডাকাতিও কম হতো।
কাচারিতে বাড়ির স্কুল-কলেজগামী ছেলেরা পড়াশোনা করতো। দিনের বেলা কাজের শ্রমিকরা ক্লান্তি দূর করতে বিশ্রাম নিতো এই কাচারি ঘরে। কাচারি ঘরের অবস্থান ছিল, মূল বাড়ি থেকে একটু দূরে আলাদা খোলামেলা জায়গায়।
Leave a Reply