খালিয়াজুরী প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরীতে প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, খালিয়াজুরীতে প্রায় ২৯৭’৬৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এলাকায় মোট জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৭৪৬ হেক্টর। ছয়টি ইউনিয়নের ৫৪ টি ওয়ার্ডে ১৮ টি ব্লকের মধ্যে প্রায় ২৫২২২ টি পরিবারের মধ্যে কৃষি জমি চাষাবাদ করা হয়। খালিয়াজুরী কৃষি অফিস থেকে ৯০০ জন কৃষককে ৫ কেজি করে উপশি ধান বীজসহ ১০ কেজি এমওপি, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ২৭০০ জন কৃষককে ২ কেজি করে হাইব্রীড ধানবীজ দেওয়া হয়েছে। উক্ত ধানবীজ থেকে কৃষকেরা ভাল বীজ ফলানো শেষে ডিসেম্বর /২৫ ইং এর প্রথম সপ্তাহ থেকে ধান রোপন শুরু করেছে।
মেন্দিপুর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ রিপন মিয়া, মোফাজ্জল মিয়া, চাকুয়া ইউনিয়নের ওয়াসিম মিয়া, মোঃ কান্চন মিয়া, খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের পান্ডব সরকার, মোঃ জিয়াউল হক হিমেল, নগর ইউনিয়নের মোঃ রাসেল মিয়া, নান্টু লাল সরকার, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মোঃ ইসহাক মিয়া, সাবান আলী ও গাজিপুর ইউনিয়নের মোঃ মজনু মিয়া, রোকসানা আক্তার সহ সবাই বলেন এ বছর আমরা সময়মত বীজবপনের জন্য বীজধান ও সার পেয়েছি এবং সঠিকসময়ে ধান রোপন করেছি। আশা করি ফসল ভাল হবে । অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের আবহাওয়া খুব বেশী ঠাণ্ডা থাকায়, শ্রমিকের মজুরী জনপ্রতি দৈনিক ৭০০/- থেকে ৮০০/- টাকা দিতে হয়েছে। তারপরও আমরা ধান রোপন প্রায় শেষ করে ফেলেছি। খালিয়াজুরী বাজারের বীজ ব্যবসায়ী ও খালিয়াজুরী উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সোহান বিন নবাব বলেন তুলনামূলক ভাবে এ বছর বীজ ও সারের কোন অভাব না থাকায়, কৃষকেরা সময়মত ধান রোপন করেছে, আশা করি ফসল ভাল হবে । খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও গাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন এবং সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান কেষ্টু বলেন তীব্র শীতের কারণে শ্রমিকের মজুরী বেশী দিতে হয়েছে। বীজ ও সারের কোন সংকট না থাকায় কৃষকেরা সময়মত ধানের জমি রোপন করেছে। আশা করি জমিতে ভাল ফলন হবে।
খালিয়াজুরী উপজেলা জামাতের আমীর মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, সুন্দরভাবে জমি চাষাবাদ করে, ধান রোপন করা হয়েছে। আশাকরি ভাল ফসল হবে । আমাদের এলাকার কৃষকেরা ভাল প্রশিক্ষণ পেলে আরো বেশী ফসল ফলাতে পারবে। কৃষকদেরকে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। খালিয়াজুরী উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন কৃষি অফিস থেকে যেভাবে সার ও বীজ কৃষকেরা সময়মত পেয়েছে, সময়মত ধান রোপন করেছে। এভাবে যদি এলাকার ডিলারদের মাধ্যমে সময়মত ন্যাযমূল্য সার দেওয়া হয়, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরী না হয়, কৃষকেরা যদি সময়মত জমিতে সার বপন করতে পারে, তাহলে জমিতে ভাল ফসল উৎপাদনের কোন সমস্যা হবেনা ।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, খালিয়াজুরীতে প্রায় ২০২৩০ হেক্টর জমিতে ধান রোপনের জন্য চাষাবাদ করা হয়, এর মধ্যে প্রায় ১৯২৭৩ হেক্টর জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা প্রায় ১৪৮০০০ মেট্রিকটন। ডিসেম্বর /২৫ ইং মাসে এমওপি সার ২০৫ মেট্রিকটন, ডিএপি সার ১৭০ মেট্রিকটন, ইউরিয়া সার ৯৯৭ মেট্রিকটন মজুদ ছিল। চলতি জানুয়ারি /২৬ ইং মাসে আরো ৬৮৮ মেট্রিকটন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ আছে। বীজ ও সারের কোন সংকট বা ঘাটতি নাই। শীতের তীব্রতার কারণে শ্রমিকের মজুরী বেশি দিতে হয়েছে। তারপরও কৃষকেরা ভালভাবে জমি রোপনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। আশাকরি প্রকৃতির কোন সমস্যা বা সংকট না হলে,জমিতে ভাল ফসল উৎপাদনের কোন কমতি হবে না ।
Leave a Reply