কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার তেতুলিয়া কৈজানি নদীর পাড় এলাকায় বাড়িতে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে এক বিপদগ্রস্থ গৃহবধূকে জোরপূর্বক পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় ১মাস ৭ দিন বয়সী তার শিশু সন্তানকে কোল থেকে হারিয়ে ফেলেন ওই মা। জানাজানি হলে ২ঘন্টা পর কৈজানী ফেরীঘাট থেকে প্রায় এক কি:মি: দূরে পাটক্ষেত থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার অভিযুক্ত আব্দুর রউফকে রাজচন্দ্রতলা গ্রাম থেকে আটক করা হয়।
অভিযুক্ত আব্দুর রউফ রাজচন্দ্রতলা গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৭ মে পরে তাকে সন্তানসহ কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। ওই নারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ারা (২৪) মদনের নায়েকপুর গ্রামর লিপন মিয়ার স্ত্রী বাড়ি থেকে কেন্দুয়া হয়ে সিরাজগঞ্জ বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে সন্ধ্যার পর কৈজানি ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছান। এসময় পার্শ্ববর্তী মদন উপজেলার চন্দ্রতলা গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রউফ নামের এক দোকানদার তাকে এত রাতে না গিয়ে সকালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়ার কথা বলেন।ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, তার দোকানে ব্যাগটি রেখে বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে রউফ মিয়া তাকে হাওরের মধ্যবর্তী অন্ধকার এলাকায় নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক পাটক্ষেতের পাশে নিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাবা চাচা ডেকেও রেহাই পাচ্ছিল না। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীর কোলে থাকা সন্তানকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। সম্ভ্রম বাঁচাতে ধ্বস্তাধস্তির পর কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে সাজিউড়া বাজারে গিয়ে আর্তচিৎকার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জেনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর শিশুটিকে পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করেন। ওই নারী আরও জানান,তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ,এক বছরের উপরে বিয়ে হয়েছিল মদন উপজেলার নায়েকপুর গ্রামের লিপন মিয়ার কাছে।
এরমধ্যে ১মাস ৭ দিন আগে একটি কন্যাসন্তান হয়। গত ২/৩ দিন আগে স্বামী তাকে জোড়পুর্বক তালাক দিয়ে সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। একরাত অন্যের বাড়ি থেকে রোববার সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে কৈজানী গুদারা পার হলে রাত হয়ে যায়। এখানের দোকানদার তার বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে অনেক দূরে রাস্তার পাশের পাটক্ষেত নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ভূক্তভোগী নারী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ধর্ষণ চেষ্টাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসার জন্য ওই নারী ও শিশুকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী মাকসুদ জানান, রবিবার রাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে সাথে সাথে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই।রাত সাড়ে ৯টায় ভিকটিম নারীকে শিশুসহ নিয়ে এসে উপজেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। ডাক্তার জানান, শিশুটি ভাল আছে। দুর্বলসহ অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার ভোররাতে রাজচন্দ্রতলা গ্রাম থেকে আব্দুর রউফ (৫০) কে আটক করে মদন থানায় নিয়ে যায় । ঘটনাস্থল যেহেতু মদন থানায় সেখানেই মামলা হবে। আমরা ভিকটিমকে মদন থানা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
Leave a Reply