মোঃ কামরুল ইসলাম রতন, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণের পৃথক ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় সর্বত্রই আলোচনা চলছে। মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ বুধবার ১ নং মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করেছেন । তথ্য উদঘাটনে পুলিশেল তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ১৫ জুলাই ১ নং মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমন্ডলী নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুল ইসলাম হারুন। ঘটনায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন মোহনগঞ্জ পৌর শহরের অভিভাবকরা। এ বিষয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কে আরো অধিকতর সচেতন হতে হবে তিনি জানান । তিনি বলেন, দুইটি ঘটনার তথ্য উদঘাটনের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি । আপনাদের কোন সমস্যা হলে থানার নাম্বারে মোবাইল করে অবহিত করবেন। আমি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি । তিনি আরো বলেন, পৌর শহরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মতবিনিময় সভা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে । ১৩ জুলাই পৌরশহরের দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেরিন আক্তার (১১) টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে গেলে কয়েকজন অজ্ঞাত যুবক তাকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি রুমাল তুলে দিতে বলে।পরিবারের অভিযোগ, রুমালটি তুলতেই জেরিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে অপহরণকারীরা তাকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। বিদ্যালয় ছুটির পর জেরিন বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধার করে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। জেরিন পৌরসভার দৌলতপুর এলাকার বাদাম বিক্রেতা মো. কামাল মিয়ার মেয়ে। অপরদিকে রোববার মোহনগঞ্জ ১ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোমাইয়া আক্তারকে (৯) অপহরণের চেষ্টা করা হয়। সে টেংগাপাড়া এলাকার সেলিমের মেয়ে।ভুক্তভোগী ও পরিবারের সদস্যদের জানান , বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসে থামে। সেখান থেকে নেমে এক যুবক জোর করে সোমাইয়াকে গাড়িতে তুলে তার মুখ চেপে ধরে। পরে সিএনজিটি দ্রুত নেত্রকোণার দিকে রওনা দেয়।বিরামপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে সোমাইয়া সাহসিকতার সঙ্গে অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।অভিভাবক শামীমা আক্তার শিশির বলেন, “এমনিতেই সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। পরপর দুই ঘটনায় সেই ভয় আরও বেড়ে গেছে। মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা আসমা বলেন, “ঘটনার পর শিক্ষক-অভিভাবক সবাই আতঙ্কে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের একা বিদ্যালয়ের বাইরে না যেতে এবং প্রয়োজন হলে দলবেঁধে বা অভিভাবকের সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
Leave a Reply