তুই কি মানব আস্ত দানব,
যে সন্তান মাকে বৃদ্ধা আশ্রমে পাঠায়।
বুঝবি কি করে কত ব্যাথা, জঠরে
অসহায় মাতা কষ্ট সহ্য করে রেখেছে বড় আদরে।
কত দুঃখ বেদনা দিয়েছিস,
ও রে মনুষ্যত্ত্বহীন
পারবে কী দিতে ঐ দুধের ঋণ।
ভুলে গেছিস অদম ঐ ব্যাথার দিন।
কত যন্ত্রনা, কত বেদনা, কত অসংযম,
তাই বুঝি আজ মায়ের স্থান বৃদ্ধা আশ্রম।
দু মোটো ভাত হাড়িতে,
সন্তানকে রেখে পারিনি মা খেতে।
সহায়হীন মা যন্ত্রনায় কাতর,
পাবে কি জান্নাত ওরে মানব প্রস্তর।
আজ হয়েছিস বড়
মা হয়েছে বুড়ো।
কত বিলাশ আনন্দ ঘন দিন,
ভুলে যাসনে রে অদম সেই দুধের ঋণ।
আজ মায়ের জন্য দু মোটো ভাত,
নেই তোর হাড়িতে
নিঃসম্বল মায়ের বেদনা
পারিস নি তুই বুঝিতে।
কত তিমির কেটে যাবে।
তপন উঠিবে জেগে।
দুই নেত্র ভরে দেখিতে নাহি পাবে
অসীম মায়াময়ী দেবলোকে।
মাতা বড় অসহায়,
সন্তান যখন বড় হয়ে যায়
ঘরের কপাট যখন আসে চলে,
মায়ের কথা নিষ্প্রাণ চলে বলে।
ওরে অদম ভুলিস না,
কভূ কপাটের কাদেঁ পড়ে।
মায়ের এক ফোটা অশ্রু বেদনায় যদি পড়ে।
অকাতরে বিলিন হয়ে যাবে,
এই সাত অম্বর জমিনে।
নিষ্প্রাণ হয়ে যাবিরে তুই,
অসহায় সময়ে নেবে খুঁজ মা কই।
অসার জীবন দুঃখ শয়ে,
মা একদিন চলে যাবে পড়লোকে।
তখন বুঝবিরে অদম।
নিজেকেই প্রশ্ন করবি।
মায়ের স্থান কি বৃদ্ধা আশ্রম ?
শ্রাবণের ঘনঘটা আকাশের মতো অন্ধকার
আমার বর্তমান সময়টা,
অতীত বাধা দেয় এগোতে
ভবিষ্যৎ ডাকে নিজেকে সাজাতে।
কি করব বল ? রিমঝিম বৃষ্টি!
সারাদিন অজর ধারায় ঝরাব
নিজের নেএকে।
ভাসিয়ে দেব জীবন বন্যায় নিজেকে?
না, নিজেকে সাজাব ফুলদানিতে
কোনটা ?
ফুলদানিতে ফুল থাকে না চিরকাল
ঝড়ে যায় অনাদরে।
তাকে কে মনে রাখে?
নব বৈশাখে
মানতে চায় না উদাসীন
মনটা।
নিজেকে খুরে খুরে খায়
অল্প সময়ের
ভুলটা।
ক্ষত বিক্ষত জীবনের
শেষ অধ্যায়টুকু বেঁচে থাকে
দিতে হয় কষ্টের
মাসুলটা।
Leave a Reply