চৌধুরী নূরুল হুদা : কালোত্তীর্ণ এক রোমান্টিক কবি
রফিকুল ইসলাম আধার
নান্দনিক ও নতুনত্বের ছোঁয়া যার কবিতার পরতে-পরতে তিনি হচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের এ সময়ের শক্তিমান আধুনিক ও রোমান্টিক কবি চৌধুরী নূরুল হুদা। তাঁর কবিতায় উঠে আসে মানুষের জীবন-সংগ্রাম, মাটি ও প্রকৃতির গভীর টানের কথোকতা। তবে কবিতায় স্বদেশ ও নিস্বর্গপ্রেম অন্যতম অনুষঙ্গ হলেও রোমান্টিক কবি হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। কেবল তাই নয়, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশকের পথ বেয়ে ক্রমেই তিনি হয়ে উঠেছেন এ সময়ের এক কালোত্তীর্ণ রোমান্টিক কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ভ্রমর আলাপে ফোটে গোলাপকলি’, স্বপ্নশিশির ঝরে’, ‘সম্পর্ক থাকুক’ ও যৌথগ্রন্থ ‘কবিতার উঠোন’।কবি চৌধুরী নূরুল হুদার কবিতার একজন বোদ্ধা পাঠক হিসেবে তাঁর কবিতা পাঠে যতটুকু উপলব্ধি করেছি, তাতে বার বার তাকে রোমান্টিক কবি হিসেবেই আবিষ্কার করেছি। তাঁর রোমান্টিক কবিতাগুলোর মধ্যে ‘কুঁড়ি নেই’ কবিতাটি অন্যতম। ‘ক্যামন করে ডাক দিয়েছিলে, রইলো ফোটে পায়ের পথ’-এটি ওই কবিতার একটি বিশেষ পঙক্তি।
এখানে ফেলে আসা পথ এবং কারো ডাক কবির মনে এক গভীর রেখাপাত করে আসছে। আবার ‘বাধতে চেয়েছিলে, নিলে তা অবাক চোখে বেঁেধ’- এই চরণে ধরা পড়ে এক অমোঘ আকর্ষণের কথা যা বাঁধনে না জড়ালেও দৃষ্টি সীমানায় বন্দি করে রেখেছে। কবিতাটি মূলত সরাসরি একটি অনুর্বরতা বা ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। প্রকৃতিতে ‘কুঁড়ি’ হলো সম্ভাবনা এবং নতুন জীবনের প্রতীক। কিন্তু যখন ‘কুঁড়ি নেই’ বলা হয়, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, প্রত্যাশা অনুযায়ী জীবনের প্রতিশ্রুতি ঘটেনি। এটি সম্পর্কের বন্ধ্যাত্ব বা সময়ের সাথে-সাথে হারিয়ে যাওয়া আবেগের প্রতীকও হতে পারে। এ কবিতার শুরুতেই এক অদ্ভুত আমন্ত্রণের রেশ পাওয়া যায়। কবিতার মধ্যভাগে ঘরোয়া জীবন ও নিসঙ্গতার এক নিপুণ চিত্রকল্প ফুটে ওঠেছে।
যেমন: ‘সারাটা দুপুর ঘষামাজা/খাঁচায় আটকে রাখা’ ও ‘আয়নায় তুমি অনুপম’- এসব বাক্যের মধ্য দিয়ে একঘেয়ে ঘরোয়া কাজ বা জীবনকে ঘষেমেজে সুন্দর করার ব্যর্থ চেষ্টা বা অসম্ভবকে সম্ভব করার বা মুহূর্তকে ধরে রাখার এক করুণ আকুতি ও নিজের ভেতরে বা আয়নায় যাকে দেখা যায়, বাস্তবে তাকে ছোঁয়া যায় না-এমন মর্মার্থই বুঝাতে চেয়েছেন। আবার ‘আহা সোনাঝুঁড়ি নদী/ইশকুল-কলেজ পথের ছায়া/দারুসসালাম/মসজিদের সন্নিকটই বাড়ি।’
এখানে এমন সুনির্দিষ্ট কিছু স্থানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে যা কবিতাটিকে কল্পলোক থেকে নামিয়ে এনে এক বাস্তব মাটির গন্ধে জড়িয়ে দিয়েছে। এটি কোন নির্দিষ্ট স্মৃতি বা নির্দিষ্ট মানুষের প্রতি কবির নিবেদনকে স্পষ্ট করে। কবিতাটির শেষাংশ সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর। এখানে একটি বৃক্ষের রূপক ব্যবহার করা হয়েছে: ‘বৃক্ষটির তার বয়স বাড়ে, এই/অবেলায় স্নান করে বসে থাকে/জলে ঢালে, উর্বরতা দেয়/গড়িয়ে পড়ে বিকেল/কুঁড়ি নেই, ফলে ধরে না তাতে’। এখানে বয়স বাড়লেও বা সমস্ত যত্ন নিলেও যখন ফল ধরে না বা কুঁড়ি আসে না, তখন সেটি জীবনের এক চরম শূন্যতাকে নির্দেশ করে। জীবনের বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার মুখে এসে কবি উপলব্ধি করছেন তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষা বা সাধনা শেষ পর্যন্ত শেষ হয়নি। কবিতাটি গদ্য ছন্দে লেখা হলেও এর ভেতরে একটি অন্তর্নিহিত সুর বা তালের দোলা আছে।
বিশেষ করে শেষের দিকে ‘একটু জল ঢেলে দিস প্রাতে’-এ চরণ বা আকুতিটি পাঠককে বিষণ্ন করে তোলে। ‘শ্যামল বাঁশি’, অঞ্জলিভরা দুপুর’,‘অমৃত’-এই শব্দগুলো কবিতায় এক ধরণের ধ্রুপদী আবহ তৈরি করেছে। মূলত: কবিতাটি একটি অতৃপ্ত প্রেমের বা অপূর্ণ জীবনের গান। যেখানে ঘর আছে, স্মৃতি আছে, এমনকি যত্নের ত্রুটি নেই-তবুও দিন শেষে সেখানে কোনো নতুন কুঁড়ি বা স্বার্থকতা নিয়ে। ফলে কবিতাটি হয়ে উঠেছে এক নি:সঙ্গ মানুষের হাহাকার, যে তার সমস্ত শূন্যতা নিয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে নিঃসঙ্গ গাছের মতো।তেমনি ‘ওগো বালিকা মেঘ’ কবিতাটিও কবি চৌধুরী নূরূল হুদার আরও একটি আধুনিক গীতিধর্মী রোমান্টিক কবিতা, যেখানে পরাবাস্তবতা, প্রকৃতি এবং চিরন্তন বিরহচেতনা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। কবিতাটির প্রধান শক্তি হলো এর অপূর্ব চিত্রকল্প। কবি দৃশ্যমান জগতের সাথে অদৃশ্য অনুভূতির এক সেতু তৈরি করে প্রকৃতি ও মানব রূপের মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছেন। যেমন: ‘পরনে তার সবুজ ছায়া/সিঁথিতে আঁকা সন্ধ্যার মায়ার’ এখানে প্রকৃতি কোনো জড় বস্তু নয়, বরং এক জীবন্ত নারীসত্তা। আবার ‘চোখের বাঁশি’, ‘রৌদ্র পরাশর’ বা ‘স্থির সময়ের তীর’র এই শব্দবন্ধগুলো পাঠককে সাধারণ যুক্তির বাইরে এক মায়াবী জগতের স্বাদ দেয়। কবিতাটিতে এক অনির্দিষ্ট অপেক্ষার করুণ রস ফুটে উঠেছে।
যেমন: ‘সে যদি আসে তার পানে চেয়ে থাকে’ কিংবা ‘নিখোঁজ রয়েছে যে, তারে ডাকি’- এই পঙক্তিগুলো এক গভীর শূন্যতা ও আকাঙ্খার বহিঃপ্রকাশ। আর: ‘আমি কোথাও থেকে কোথাও যাই?/কোন দিকে ডাকি সবগুলো পথ!’- এটি কেবল প্রিয়জনের খোঁজ নয়, বরং কবির নিজের হারিয়ে যাওয়ার হাহাকার। কবি এ কবিতায় আধ্যাত্মিক ও লৌকিক প্রেমের একটি মিশ্রণ ঘটিয়েছেন। যেমন: ‘সে বাউল প্রণয়ের দড়ি টানে’- এখানে প্রেমকে একটি সাধনা বা বাউলিয়ানা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কবিতার নাম এবং শেষ চরণে ‘বালিকা মেঘ’ রূপকটি অত্যন্ত সার্থক। মেঘ যেমন বৃষ্টির মাধ্যমে তৃষ্ণা মেটায়, কবিও তার হৃদয়ের দহন মুছতে সেই মায়াবী সত্তার কাছে ‘বৃষ্টি’ তথা আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।
কবিতাটি মূলত মুক্তক অক্ষরবৃত্ত বা গদ্যছন্দের দোলায়িত চালে রচিত। এর প্রবাহ নদীর মতো সাবলীল। শব্দ চয়নে গ্রামীণ অনুষঙ্গ (আমের মুকুল, বকুল, খালপাড়, ইশকুলের মাঠ) এবং নাগরিক অনুষঙ্গ (ট্রেনের শব্দ, শহর) একই সুতোয় গাঁথা হয়েছে। ‘ওগো বালিকা মেঘ’ কবিতাটি মূলত এক নিঃসঙ্গ আত্মার আর্তি। কবিতাটি পাঠ করলে এক ধরণের বিষণ্নতা গ্রাস করে, যা জীবনানন্দের ‘রূপসী বাংলা’ বা ‘ধূসর পান্ডুলিপি’র মেজাজ মনে করিয়ে দেয়। কবি ‘দূরে কাছে দূরত্ব নেই এখন’- বলে সময় ও দূরত্বের সীমানা মুছে দিয়েছেন, যা প্রেমের এক শাশ্বত রূপ।
ট্রেনের শব্দ এবং স্মৃতির রোমন্থন মিলে কবিতাটি আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধকে ফুটিয়ে তুলেছে। কবি এই কবিতায় প্রকৃতিকে কেবল পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করেননি, বরং প্রকৃতিই এখানে প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছে। ‘বালিকা মেঘ’ বৃষ্টির জন্য নয়, বরং কবির জীবনের ধূসরতাকে ধুয়ে দেওয়ার এক নাম। এটি একাধারে প্রেম, প্রকৃতি এবং অস্তিত্ব সন্ধানের কবিতাও বলা যায়।এবার কবি চৌধুরী নূরুল হুদার ‘জোস্নার আলো’ নামে আরও একটি নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। এ কবিতাটি একটি গভীর আবেগঘন ও রূপকধর্মী সৃষ্টি। এখানে প্রকৃতি, বিরহ এবং আধ্যাত্মিক উত্তরণ-এই তিনটি ধারা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। যেমন: কবিতাটি মূল সুর হলো অন্ধকার থেকে আলোয় উত্তরণ।
কবি এখানে মানুষের অন্তরের হাহাকার, একাকীত্ব এবং না-পাওয়ার বেদনাকে চিত্রিত করেছেন। তবে এই বিষণ্নতা শেষ পর্যন্ত এক পরম প্রাপ্তিতে গিয়ে ঠেকেছে। কবিতার শুরুতে যে আঁধার এবং নিঃসঙ্গতার সুর ছিল, সমাপ্তিতে তা ‘জোস্নার আলো’ বা কাঙ্ক্ষিত সান্নিধ্যে এসে প্রশান্তি লাভ করেছে। কবি এ কবিতায় বেশ কিছু শক্তিশালী চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন। যেমন: ‘নিস্তব্ধ আঁধারে ওড়ে পাখি’ এটি মনের অস্থিরতা ও লক্ষ্যহীনতার এক চমৎকার প্রকাশ। কবি নিজের হৃদয়ের শূন্যতাকে ‘সাহারা মরুভূমি’র সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে তিনি নতুন করে জীবনের বীজ বপন করতে চান। ‘মাটি কেটে কেটে ঢুকছে ইঁদুর’ এই উপমাটি অস্তিত্বের ক্ষয় বা মনের ভেতরকার কোনো গোপন যন্ত্রণার প্রতীক, যা তিলে তিলে মানুষকে শেষ করে দেয়। কবিতার প্রথমাংশে বেদনার এক প্রগাঢ় প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। ‘পাঁজর ছিঁড়ে আনব জোস্না’, ‘দু’চোখের জলে ভাসিয়ে’ এই পঙক্তিগুলো কবির তীব্র আবেগ ও ত্যাগের মানসিকতাকে ফুটিয়ে তোলে।
দুঃখকে শুষে নেওয়া এবং শতছিন্ন আঘাতকে বহন করার মধ্য দিয়ে কবির সহনশীল ও সংবেদনশীল সত্তাটি ফুটে ওঠে। কবিতাটি একটি নাটকীয় মোড় নেয় শেষ স্তবকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং অন্ধকারের পর যখন ‘একটা হুইসেল’ বেজে ওঠে এবং ‘নাও’ (নৌকা) শব্দ করে ডাকে, তখন তা মুক্তির সংকেত হয়ে আসে। যেন দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে আটকে থাকা কবি অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ‘জোস্নার আলো’র দেখা পান। এই আলো হতে পারে কোনো প্রিয়জন, কোনো আদর্শ বা খোদ পরমাত্মার সান্নিধ্য। কবিতাটি গদ্যছন্দে লেখা হলেও এর প্রতিটি পঙক্তিতে একটি অন্তর্নিহিত লয় কাজ করছে। শব্দের ব্যবহারে কবি অত্যন্ত পরিমিত এবং চিত্রাত্মক। ‘তমাল বন’, ‘সাহারা মরুভূমি’, ‘আর্তনাদ’-এই শব্দগুলো কবিতার মূলভাবকে করে তুলেছে আরও গাম্ভীর্যপূর্ণ।সামগ্রিক মূল্যায়নে বলা যায়, ‘জোস্নার আলো’ একটি আত্মিক যাত্রার কবিতা।
এখানে অন্ধকার শুধু আলোর অভাব নয়, বরং তা এক প্রকার যাতনা। আবার জোস্না শুধু চাঁদের আলো নয়, তা হলো মুক্তি ও প্রশান্তি। কবি অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে মানুষের অন্তর্গত শূন্যতাকে প্রকৃতির অনুষঙ্গে তুলে ধরেছেন। কবিতার শেষ পঙক্তি ‘এই ত তুমি এসেছ জোস্নার আলো!’ পাঠকের মনে এক ধরণের তৃপ্তি ও আশাবাদের সৃষ্টি করে বৈকী।একইভাবে তাঁর প্রেম-বিরহের কবিতাতেও ফোটে ওঠে প্রাপ্তির উচ্ছাস ও বেদনার অন্ত নির্যাস। তাঁর ‘চন্দন সুখ’ কবিতায় এমনই চিত্র পাওয়া যায়। ‘সে যদি না আসে যাবো না নীড়ে’- এ পঙক্তিতে তিনি অপেক্ষা ও সংকল্পকে বিমূর্ত প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। যার মধ্য দিয়ে কবির একরোখা অভিমান ও ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ পায়। নীড় বা ঘরে ফিরে যাওয়ার চেয়ে অজানার পথে পাড়ি দেওয়া বা তীরের বেদনার চিহ্ন নিয়ে পড়ে থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছেন কবি। চন্দন যেমন দহন বা ক্ষয়ের মাধ্যমে সুগন্ধ ছড়ায়, কবির এ বিষাদ বা বেদনার চিহ্নগুলোও তেমনি এক ধরণের পবিত্র ও স্নিগ্ধ অথচ দগ্ধ সুখের প্রতীকিরূপে উপস্থাপন করেছেন। যেন সুখকেই জ্বালাময়ী কবি আগলে রাখতে চান। অর্থাৎ প্রিয়জনকে না পেলেও তার দেওয়া বিরহটুকুই অতিব মহার্ঘ কবির কাছে। নব্বই দশকের শক্তিমান আধুনিক কবি চৌধুরী নূরুল হুদা জন্মসূত্রে কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল উপজেলার কার্তিকখিলা গ্রামের অধিবাসী হলেও তাঁর বিচরণ সুদীর্ঘকাল থেকেই ঢাকা ও খোদ ময়মনসিংহ অঞ্চল কেন্দ্রিক। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক ও সফল সংগঠক। বিশেষ করে তিনি ময়মনসিংহের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ও পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ময়মনসিংহ অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন, সাহিত্য পত্রিকা ও ছোট কাগজ সম্পাদনার সাথে জড়িত। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সাহিত্য আড্ডা ও সেমিনারে তাঁর সরব নেতৃত্ব দেখা যায়। তাঁর সৃজনশীল লেখনী এবং সম্পাদনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সাহিত্য চর্চাকে তিনি গতিশীল ও সমৃদ্ধ করে তুলছেন। সেই সাথে তিনি এ অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং শিল্প-সাহিত্য নিয়ে গবেষণামূলক কাজ ও লেখালেখিও করছেন পুরোদমে। তাঁর প্রকাশিত কবিতার বইগুলোতে সহজ-সরল ভাষার পাশাপাশি গভীর জীবনবোধের স্পষ্ট ছাপ লক্ষ্যণীয়। চৌধুরী নূরুল হুদা একজন উচ্চ শিক্ষিত ও বন্ধুবাৎসল ব্যক্তিত্ব।
তিনি পেশায় ঢাকাস্থ জাপান গার্ডেন সিটি লিমিটেড এর কর্পোরেট অ্যাডমিন হিসেবে কর্মরত থাকলেও সেই ১৯৯২ সনে রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী তাঁর চাচা লেখক ও প্রকাশক এস জামান চৌধুরীর সান্নিধ্যে থেকে চাচার নিবন্ধিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘চিন্ময়’ পত্রিকায় লেখালেখির পাশাপাশি সম্পাদকীয় কর্ম জীবন শুরু করেন। সেইসুবাদে ঢাকার বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীতেও চলে তাঁর লেখালেখি। ধাপে ধাপে দেশের প্রায় সব জাতীয় পত্র-পত্রিকায় তাঁর কবিতা ও লেখা ছাপা হতে থাকে। বর্তমানে তাঁর সম্পাদনায় কবি লেখক ফাউন্ডেশনের মুখপত্র ‘সাহিত্যপত্র’, মনির উদ্দিন ইউসুফ সাহিত্য পরিষদের মুখপত্র ‘অন্বীক্ষণ’ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ লেখক-সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের মুখপত্র ‘ফুলেশ্বরী’ প্রকাশিত হচ্ছে। ১ জানুয়ারি তাঁর ৫৮তম জন্মদিন। জন্মদিনের মাহেন্দ্রক্ষণে প্রিয় কবিকে অনাবিল শুভেচ্ছা। আগামী দিনগুলোতে খরাগ্রস্ত পললভূমির সাহিত্যাঙ্গনে আপনার আরও সরব বিস্তৃতি হোক, আপনি লাভ করুন শতায়ু- এই কামনা অনুজ কবির। জয়তু: চৌধুরী নূরুল হুদা। জয়তু: তাঁর কবিতা ও সাহিত্য।লেখক: কবি, গীতিকার ও সাংবাদিক, সভাপতি, কবিসংঘ বাংলাদেশ।
Leave a Reply