কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়ার ৫২শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ সন্তান ভূমিষ্ঠে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যববস্থা ছিল না দীর্ঘদিন। ২০২১ সালে প্রথম উদ্বোধন করা হয় সিজারিয়ান কার্যক্রম। উদ্বোধন করেন তখনকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা: এবাদুর রহমান। সে বছর সিজার হয় মাত্র ৪ জন মায়ের। এরপর ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়তে থাকে।
২০২২ সালে ১৫জন,২০২৩ সালে ৩৩ জন,২০২৪ সালে ১৯জন,২০২৫ সালে ২৫জন এবং ২০২৬ সালের ৮মার্চ পর্যন্ত ১১জন। এতে দেখা যায় ৫বছর ২মাস ৮দিনে সফল সিজার সম্পন্ন হয়েছে ১০৭জন গর্ভবতী মায়ের। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান বিভাগ। ৮ ও ৯ মার্চ হাসপাতালটিতে সরেজমিন ঘুরে এই তথ্য পাওয়া যায়। গাইনী বিভাগের তথ্যে জানা যায়, জুনিয়র কনসাল্টেন্ট গাইনী ডাক্তার নাদিয়া মির্জা,জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, সিনিয়র স্টাফ নার্স হাবিবা আক্তার প্রমুখ সিজারিয়ান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সিজারিয়ান বিষয়ে জানতে চাইলে গাইনী বিভাগের প্রধান ডা: নাদিয়া মির্জা এই প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে প্রতিমাসে (রবি ও বুধবার সপ্তাহে দুই দিন) গড়ে ৪/৫টি সিজারিয়ান অপারেশন এবং ২/৩টি নর্মাল ডেলিভারি হয়ে থাকে। এর আগে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেক-আপ করতে হয়। মায়েদের প্রতিমাসে একবার হলেও হাসপাতালের এনসি কর্ণা’এ এসে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিক্ষা,ঔষধ ও পরামর্শ ইত্যাদির জন্য আসা দরকার।কিন্তু তা অনেক গর্ভবতী মা ও তার পরিবার আসেন না বা জানেন না। গর্ভবতী মায়েদের শুরু থেকে সন্তান জন্মদানের আগপর্যন্ত ৭/৮টি পরিক্ষা লাগে যা এই হাসপাতালেই হয়।
এই পরামর্শ ও সেবাগুলো আমরা দিয়ে থাকি। তিনি আরও বলেন,আমরা নর্মাল ডেলিভারির চেষ্টা বেশী করে থাকি। আমাদের টার্গেট আছে কমপক্ষে ২৫ পার্সেন্ট নর্মাল ডেলিভারি করানোর। তাদেরকে পরামর্শ দিই নর্মাল হলেও হাসপাতালে নিয়মিত আসতে হবে। এতে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমবে। আমরা হাসপাতালে শতভাগ ফ্রি সিজার সার্ভিস দিয়ে থাকি।
এব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা: নাঈম হাসান বলেন,আমাদের সিজারিয়ান ব্যবস্থাপনা অনেক ভাল। আমাদের চেষ্টা সিজারের সংখ্যা বেশী নয় স্বাভাবিক ডেলিভারির সংখ্যা বৃদ্ধি করা। সে জন্যে গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেক-আপ ও পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত হাসপাতালের এনসি কর্ণারে এসে সেবা নেওয়া আবশ্যক। তাই গর্ভধারণ করা মায়েদের বলতে চাই আপনারা হাসপাতালে আসুন, সেবা নিন এবং নিরাপদ সন্তান জন্মদান করুন।
Leave a Reply