কেন্দুয়া প্রতিনিধি: পাহাড়ি আদিবাসী মেয়েদের মাসিককালিন সময়ে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট জনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে নিজস্ব গবেষণা তুলে ধরেছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়ার ইউএনও ড.ইমদাদুল হক তালুকদার।
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রাকৃতিক ও অবকাঠামোগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশুদ্ধ পানির অভাব। এই অভাব সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে পাহাড়ি আদিবাসী মেয়েদের জীবনযাত্রায়, বিশেষ করে তাদের মাসিক বা ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে।
নারীদের মাসিক একটি প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া হলেও, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনার অভাবে এটি অনেক মেয়ের জন্য কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানি দূরে পাহাড়ি ঝরনায় গিয়ে সংগ্রহ করতে হয়। মাসিক চলাকালীন সময়ে এই দূরত্ব অতিক্রম করা মেয়েদের জন্য শরীরিকভাবে কষ্টকর।
পানির অভাবে তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পারে না, যা থেকে সংক্রমণ, চর্মরোগ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়।
শুধু শারীরিক ঝুঁকি নয়, এই পরিস্থিতি মানসিক চাপও তৈরি করে।
এ বিষয়ে ড. ইমদাদুল হক তালুকদার জাপান সরকারের আমন্ত্রণে গত ১৯ থেকে ২২ মে ২০২৫ পর্যন্ত জাপানের ওসাকা শহরে অনুষ্ঠিত ” আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ওন দ্যা অ্যাডভান্স ইন পাবলিক হেলথ” (“International Conference on the Advances in Public Health”-) এ অংশগ্রহণ করে তিনি নিজ গবেষণা উপস্থাপন করেছেন।
জাপান সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে আয়োজিত এ কনফারেন্সে বাংলাদেশের বান্দরবানের উপজাতি তরুণীদের মাসিককালীন সময় পানির সংকটজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত এ গবেষণা। গবেষণাটি ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার ও কারিতাস বাংলাদেশ যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ইউএনও ড. ইমদাদুল হক তালুকদার একজন অভিজ্ঞ গবেষক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই পরিচিত হয়েছেন। তিনি এর আগে অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, স্পেন, ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে লেকচার দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে গৌরব অর্জন করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে তুলে ধরায় তাঁর এ ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন।
এই উদ্যোগ শুধু একটি গবেষণা নয়—এটি একটি মানবিক বার্তা। ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদারের এই দুরদর্শী পদক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা জাগায়।
তাছাড়া তিনি পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার মাধ্যমে একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ডিমেনশিয়া কেয়ার পলিসি ও স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কিছু বিষয় আলোকপাত করেছেন এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
তিনি ইউএনও হিসাবে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কর্মরত আছেন। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও তিনি গবেষণার কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও সাহিত্য সংস্কৃতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।
তিনি জাপান থেকে ফিরে এসে কেন্দুয়ায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, পাহাড়ি আদিবাসী মেয়েদের এই প্রাকৃতিক বিষয়টিকে সম্মানের সাথে মেনে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হলে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।
Leave a Reply