বিশেষ প্রতিনিধি ঃ নেত্রকোণায় স্ত্রীর যৌতুক মামলায় ইউপি সচিব মোঃ মান্নান হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, বিভিন্ন সময় টাকা দাবির কারণে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে দুই সন্তানের জননী। মামলার আজহারে জানা যায়, ৮ আগস্ট ২০১৪ সালে ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় এই দম্পতির। তাদের ৯ বছর ও ৫ বছরের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামী মোঃ মান্নান হোসেন (৪৪) বর্তমানে খালিয়াজজুরী উপজেলার গাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে চাকরি করেন। মান্নান হোসেন নেত্রকোণা সদর উপজেলার বড়ওয়ারী এলাকার দিগজান গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তার স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। ,
দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে কলহ চলে আসছিল।তার স্ত্রীর দাবি স্বামী তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন। বেতনের পুরো টাকা প্রতি মাসে তার একাউন্টে জমা দিতে বলেন। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে তাকে জায়গা কিনে দিলেও আমার কাছে আরও ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেন তিনি। এমনকি ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আমাকে আমার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন, আমি আমার ২ ছেলেসহ নেত্রকোণা শহরে বসবাস করি। আমার বাসায় এসে গত ৩ জুলাই টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট ২৬ ইং তারিখে আটপাড়া আমলী আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা করেন তার স্ত্রী। ,
বিজ্ঞ আদালত তাকে গত রোববার (২৫) অক্টোবর জেল হাজতে প্রেরণ করে। জানতে চাইলে খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদেরকে রাজি করাতে পারিনি। এ ব্যাপারে বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মুখলেসুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বিজ্ঞ আদালত সমাধানের লক্ষ্যে আসামীকে একবার জামিন দিয়েছিল। কোন সমাধান না হওয়ায় রোববার আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
Leave a Reply