কামরুল ইসলাম রতন, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলাধীন বিরামপুর হাইস্কুল সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্যামগঞ্জ সেকশনের বিরামপুর ই /১৯ সি রেলক্রসিং এর রেলওয়ে নথিপত্র অনুযায়ী তিনজন গেটম্যান কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে রেলক্রসিংয়ের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে তিন শিফটে তিনজন ডিউটি করার কথা রয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা , তারপর দুপুর ২ টা থেকে রাত দশটা , রাত দশটা থেকে সকাল ছয়টা ।
২৬ জুলাই সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সকাল ৮:০০ মিনিটে আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনটি মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এ সময় ৮,০৭ মিনিটে বিরামপুর রেলগেটে গেটম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাথীবুর রহমান। অতঃপর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা (ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা) মহুয়া কমিউটর ট্রেনটি বিকাল ৪:৪৫ মিমিটে বিরামপুর রেলক্রসিং অতিক্রম করে। এ সময় শিফট অনুযায়ী তখন ডিউটি করার কথা ছিল রনি বাবুর। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তখনও ডিউটি করেন সাথীবুর রহমান। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, “রনি বাবু অসুস্থ, তিনি বিরামপুর রেল ক্রসিং সংলগ্ন বাসায় শোয়ে আছেন। আমরা মিলেমিশে ডিউটি করি।”
সঙ্গে সঙ্গে রনি বাবুকে ফোন করলে (আপনি কোথায়) জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান- তিনি তার কর্মস্থলে বিরামপুর রেল ক্রসিং এ ডিউটিরত। অথচ ডিউটিরত সাথীবুর জানান রনি বাবু অসুস্থ। দুজনের কথায় স্পষ্ট অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। অপর গেটম্যান মিনহাজুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার বারবার চেষ্টা করেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি। অভিযোগ রয়েছে, এখানে তিন জন ডিউটি করার কথা থাকলেও মূলতঃ মাসব্যাপী একজনই ডিউটি করেন।
পরবর্তী মাসে অন্য আরেকজন ডিউটিতে আসেন। এভাবেই তারা সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের মনগড়া অনুযায়ী ডিউটি করে আসছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী (ময়মনসিংহ) নাজমুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, এমন অভিযোগ মৌখিকভাবে আমি শুনেছি। আজ আপনার অভিযোগের ভিত্তিতে আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করবো । তদন্তে সাপেক্ষে রেলওয়ে চাকুরী বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply